
৳ 550
প্রথমবার অর্ডারে অতিরিক্ত ১০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়। কুপন: FIRSTORDER
অমর একুশে ২০২৬ বইমেলার বই দেখতে ক্লিক করুন
রাত না দিন চঞ্চল চৌধুরি কিছুই মনে করতে পারেন না। আকাশে থালার মতো বড়ো চাঁদ। মিশকালো জলে জোছনার অবয়ব। আলো-আঁধারের সুনসান সেই নীরবতায় ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে দীঘির জল পাড়ি দিয়ে একটা বাদুড় ওপারে উড়ে যায়। চঞ্চল চৌধুরি এখন যৌবনের সেই তাগড়া যুবক। জোছনার জলকেলির এমন রাতে মেঘাকে খুঁজছে। মেঘা, মেঘা! দেখো, আমি এসেছি।
উদভ্রান্তের মতো ঘাট ছেড়ে উঠতে যাবে অমনি পাশে এসে দাঁড়ায় সাদা জোব্বা পরিহিত সেই পুরনো প্রহরী রহমত আলী।
—বাবা চঞ্চল, তুমি এখানে আবার এলে কেন?
—কাকু, মেঘা কোথায়!
—ঐ যে ঘর দেখো ওখানেই ছিল আমার মেঘা মা।
-আমাকে নিয়ে চলুন কাকু। আমাকে এক্ষুণি নিয়ে চলেন! আমি মেঘার কাছে যাব।
সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠ খুলে দেয় রহমত আলী। কেউ নেই আর ওখানে।
পুরো গল্প শুনে চঞ্চল চৌধুরি দু হাত কচলাতে থাকেন। ঘন নিঃশ্বাসে তুমুল বেগে ওঠা নামা করছে তাঁর বুক। যেন তিনি দেখতে পেলেন তাঁর সেই দীঘল কালো চুলের শ্যামলা সুন্দরী রাজকন্যা মেঘা উসকো খুসকো চুলে মেঝেতে চটের বিছানায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তাঁর জীর্ণ শীর্ণ হাত নিয়ে খেলছে ইনাক্ষী।
চঞ্চল চৌধুরি দৌড়ে দীঘির ঘাটে চলে যান। জলের মধ্যে পা দুটো ডুবিয়ে মাথা গুঁজে দু হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকেন। আহা তাঁর জন্য মেঘার এই করুণ পরিণতি হয়েছিল। চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন চঞ্চল চৌধুরি। সেই কান্নার শব্দে কিছু রাতজাগা পাখি তারস্বরে চিৎকার করে রাতের নীরবতা ভাঙে।
‘চঞ্চল, চঞ্চল এই তো আমি! কাঁদছ কেন! দেখো, এই তো আমি। আমি মেঘা! চিনতে পারছ না!’ কাঁধে মেঘার আলতো স্পর্শ।
চঞ্চল চৌধুরি মুখ তুলে তাকাতেই দেখেন সেই আগের মতো মিষ্টি করে হাসছে মেঘা।
-চঞ্চল, তুমি কী আমার ইনাক্ষীকে এনে দিতে পারো? ঐ তো জলের বুকে ঘুমিয়ে আছে সে।
চলো, আমরা ওর কাছে যাই।
| Title | : | রঙ্গমঞ্চ (হার্ডকভার) |
| Publisher | : | চলন্তিকা |
| Edition | : | 1st Published, 2025 |
| Country | : | Bangladesh |
| Language | : | Bengali |
Reviews and Ratings
How to write a good review
৳ 0